প্রযুক্তির অপব্যবহার

135
প্রযুক্তির অপব্যবহার

প্রযুক্তির ব্যবহার কোনভাবেই খারাপ কিছু নয় কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার বা আসক্তি অবশ্যই খারাপ আর এর সব থেকে বেশী খারাপ দিক হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন গেমিং। এই গেমিং এর নামে যে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে তাকে ব্যবহার না বলে অপব্যবহার বলা ঠিক হবে। অতিরিক্ত অনলাইন গেমিং মানুষের চিন্তা-চেতনা, আচরণ, সামাজিক দক্ষতা, দৈনন্দিন জীবনযাপন সহ সবকিছুর উপরে প্রভাব ফেলে একটা সময় তা আসক্তি হয়ে যায়, আর তখন সেটা অন্য যেকোনো নেশার থেকে কোন অংশে কম নয়। অনলাইন গেমিং আসক্তিতে ভোগা মানুষগুলোর দৈনন্দিন জীবনে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়।

  • পড়ালেখা, অফিস বা বাসার কাজে মনোযোগ কম হবে।
  • ফলাফল খারাপ করবে কাজের মান কমে যাবে।
  • মেজাজ খিটখিটে হবে মন খারাপ থাকবে আচরণে আগ্রাসী হয়ে উঠবে।
  • ঘুমের সমস্যা দেখা দিবে, দিনে ঘুমাবে রাতে জেগে থাকবে।
  • মিথ্যা কথা বলবে ত্রুটিগুলো ঢাকতে চেষ্টা করবে।
  • বাথরুমে বেশি সময় কাটাবে।
  • সামাজিকতা কমে যাবে কারো সঙ্গে মিশবে না নিজেকে গুটিয়ে রাখবে।
  • কায়িক পরিশ্রম করবে না।
  • খাওয়া দ্রুত শেষ করবে এবং যে খাবার দ্রুত শেষ হয় এমন খাবার গ্রহণ করবে।

বন্ধুদের আড্ডা মানেই মন খুলে সকলের সাথে গল্প করা বা কথা বলা কিন্তু নিচের ছবিতে দেখেন এতগুলা বন্ধু কত আন্তরিকতার সহিত পাশাপাশি বসে আছে কিন্তু সবার চোখ আটকে আছে মোবাইলের স্ক্রীনে যেটা আমাদের সকলের জন্য ক্ষতির কারন। সকাল দুপুর বিকেল কি রাত সারাদিনে এমন চিত্র আলমডাঙ্গা অনেক জায়গায় দেখতে পারবেন। এই আসক্তি থেকে আগামী প্রজন্মকে মুক্তি দিতে হলে সামাজিক কার্যক্রম , খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখতে হবে এবং তা বেগবান করতে হবে। এই খেলা আসক্তির জন্য কোনোভাবেই এদের দোষ দেওয়া যাবে না, এই দ্বায় কোনোভাবেই পরিবার বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এড়িয়ে যেতে পারে না। সুস্থ ও সবল আগামী প্রজন্ম পেতে বাচ্চাদেরকে মাঠ মুখী করার কোন বিকল্প নেই।

ছবিটা আমি অনুমতি ছাড়াই তুলেছি পাকশী রেলওয়ে স্টেশন থেকে।