আলমডাঙ্গার দুর্লভ একটি গাছের কথা।

202
আলমডাঙ্গার দুর্লভ একটি গাছের কথা।
ডুগডুগি গাছ

আলমডাঙ্গা শহরের পশ্চিম পাশে কুমার নদের অববাহিকায় কুমারী গ্রামের জমিদার শৈলেন শাহার জমিদার বাড়ী, বর্তমানে যেটিকে VTI হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে, সেখানে শুরুর দিকে সরকারি ভাবে বৃক্ষ রোপন ও ভ্যাটিনারী ট্রেনিং ইনস্টিউটের সৈন্দয্য বর্ধনের জন্য অন্যান্য নানা জাতের গাছের সাথে এই বিরল গাছটিও লাগানো হয়েছিল ।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই গাছটি আলমডাঙ্গা শহরে তো নয়ই, পুরো আলমডাঙ্গা উপজেলার আর কোথায়ও দুইটি খুজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কখনো ওখানে বেড়াতে গেলে দেখতে পাবেন জমিদার বাড়ির পাশে স্বগর্বে মাথা উচু করে দাড়িয়ে গাছটি ।

যদিও স্থানীয়রা অনেকেই দাবি করেন এটি একটি বিদেশী জাতের মাকাল ফলের গাছ। শক্ত কাণ্ড বিশিষ্ট গাছটি দেখতে অনেকটাই বেল গাছের মতো। পাতার আকৃতিও তাই। কিন্তু ফল আকারে বাতাবী লেবুর (জাম্বুরা) মতো। শরীর মসৃণ আর রঙ গাঢ় সবুজ ওজন প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি। মনোলোভা এই ফলটিকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছা হবে অনেকেরই।

অনেকেই দেখার পর খেয়ে এর স্বাদও পরখ করতে চাইবেন। কিন্তু ফলটির গুণের কথা শুনলেই এর থেকে দূরে থাকবেন সবাই। এমনকি ছুঁয়ে দেখার বাসনাও মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে। কারণ ডুগডুগি বা Calabash বা suicide Fruite নামে পরিচিত এই ফলটি বিষাক্ত।

ফলটির দেখা মেলে সাধারণত পাহাড়ি এলাকায়। ফলটির বীজে রয়েছে অ্যালকালয়েডের উপস্থিতি, যা মূলত কার্ডিও টক্সিক। শুধুমাত্র ভারতের কেরালাতে এই ফলের বীজ খেয়ে অন্তত পাঁচশটি আত্মহত্যার তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সামাজিক সেবামূলক সংগঠন।

ডুগডুগি গাছ

তবে পাকা ফলের খোলস বা বহিরাবরণ শক্ত হওয়ায় এটি দিয়ে ডুগডুগি ছাড়াও নানা শিল্পকর্ম তৈরি করা যায়। ডুগডুগির বৈজ্ঞানিক নাম Crescentia cujete। ইংরেজিতে এর গাছকে Calabash Tree বলা হয়। ডুগডুগি মুলত আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ছোট ধরনের গাছ। সেন্ট লুসিয়ার জাতীয় গাছ। ভারতে প্রকৃতিগতভাবে এরা প্রচুর জন্মে।

গাছ মাঝারি আকারের চিরসবুজ। ফল দেখতে একবারে কাচাঁ বেলের মতো। ফল পাকতে সময় লাগে প্রায় সাত মাস, পাকা ফলের ভেতর কালোরাঙ্গা ছাইয়ের মতো কিছু উপাদান ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। যে কারণে একে অনেকে মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করে। গ্রীষ্মের শেষে বা জ্যৈষ্ঠ মাসে এ গাছে ফুল ফোটে, জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গাছে ফুল ফল দেখা মিলে।