আম আঁটির ভেঁপুর দিনগুলো! আমার শৈশব

273
আম আঁটির ভেঁপুর দিনগুলো! আমার শৈশব
ঝিনুক দিয়ে আম ছেলার নিরাপদ অস্ত্র।

মনে ছিলো এক নিঃস্পাপ স্বার্থপরতা । সেই স্বার্থপর মন নিয়ে আমি ভাবতাম আসলেই প্রকৃতি নিঃস্বার্থ -ই হয় !

ঝিনুকের একটা অংশ নিয়ে খসখসে মেঝেতে অবিরাম ঘষে তাতে ছিদ্র তৈরি করতাম। সেটাই হয়ে যেত আমের খোসা ছেলার নিরাপদ অস্ত্র। এরপর ঝরে পড়া গুটি আমের আশায় বাগানের আম গাছগুলোর নীচে ঘোরাঘুরি। হাতে ঝিনুক আর আম্মুর রান্নাঘর থেকে সংগ্রহ করা নুন আর লাল মরিচের গুড়ার মিশ্রণ। একটা আম পেলেই ঝিনুক দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নুন আর লাল মরিচের গুড়ার মিশ্রণ দিয়ে খাওয়া। তখন অবশ্য মনে ছিলো এক নিঃস্পাপ স্বার্থপরতা, নুন মরিচের মিশ্রণ আর গুটি আমের স্বাদ যেন শুধু আমিই নিবো আর কাওকে দিবো না। এমনটাই কেটেছে আমার শৈশব!

যেমন ছিল সেই দিনগুলি..

সেই ছোট্ট থেকে আমি কুমারী ভি,টি,আই তে আছি আব্বু আম্মুর সাথে, যখন আমি নাকি ৬ মাসের তখন থেকেই এখানে। মূলত প্রকৃতির বাতাসের তীব্রতা,আর্দ্রতা অনুভব করতে শিখেছি এখান থেকেই। প্রতিটা মূহুর্ত কেটেছে মধুর! খেলার সাথী গুলো ছিলো মিষ্টি, দিনগুলো ছিলো একদম রংধনুর মতন!

যাইহোক, আম ঝিনুক নিয়ে লিখছিলাম,আমাদের ভেটেরিনারি তে ছিলো এক বিশাল আমের বাগান (এখনো আছে তবে অনেক টাই বিলীন, বৃক্ষ রোপণ অভিযান সচল থাকলে হয়ত পরিবেশ টা ধরে রাখা যেত) আম বাগানের মাঝখানে ছিলো মাঝারি একটি খেলার জায়গা যেখানে এলাকার বড় ভাইয়া মামা রা ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট খেলতো আর আমরা ছোট্টরা ছুটাছুটি করে বিভিন্ন খেলা করতাম।

যখন আম গাছে মুকূল আসতো তখন থেকে যেন খেলাধূলা এবং আম বাগানে মানুষের আনাগোনা আরও বেড়ে যেত। আমের মুকূলের গন্ধে চারিদকে ম ম হয়ে যেত (অন্য রকম এক অনুভূতি)! যখন আমের গুটি হতো তখন থেকে আমি ও আমার বয়সী অনেকেই ঝিনুক দিয়ে আম ছিলে নুন মরিচ দিয়ে খেতাম। মাঝে মাঝে আম্মুর কাছে বায়না ধরতাম বেটে মাখিয়ে দেওয়ার জন্য (এই বায়নার জন্য অবশ্য অনেক বকাও খেয়েছি আমের সাথে)।

আম গুলো আর একটু বড় হলে শুধু আমরা ছোটরাই নই বড়রাও আসতো আম কুড়াতে। দুঃখের বিষয় সব আম গুলো বড়রা পেয়ে যেত,অবশ্য তাঁরা আমাদের ও মাঝে মাঝে সুযোগ দিতো। একদিকে বৈশাখী ঝাপটার ভয় অন্যদিকে আম কুড়ানোর মজা! কাঁঠ ফাটা রৌদ্রে এবং তীব্র গরমে অনেকেই গাছের নীচে বিশ্রাম নিত, আর বেচারী গাছ তার নিজের ফল নিঃস্বার্থ ভাবে বিলিয়ে দিতো। আসলে প্রকৃতি নিঃস্বার্থ ই হয়!

আমার নানা রঙের দিনগুলি…

সেই ছোট বেলার স্মৃতি হঠাৎ ই মনে পড়ে যায়, যখন দেখি আমার ছোট বেলার মতন ছোট ছোট বাচ্চারা ঝিনুক হাতে আম কুড়াতে এই বিলুপ্তপ্রায় বাগানে আসে।যেন ওদের মধ্যে সেই ছোটবেলাটাকে ফিরে পাই,আর আমি আবারও অনুভব করতে থাকি সেই রঙ্গিন দিন গুলো..!