ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ; ভয়ঙ্কর দু’টি নীরব ঘাতক (পর্ব-০১)

322
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শতকরা প্রায় ৬০ জনের কোন উপসর্গ থাকে না (এ জন্য দেখে থাকবেন আপনাদের এ জাতীয় কোন সমস্যা না থাকলেও অনেক সময়ই আমরা চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে দিয়ে থাকি) আর প্রেসারের কোন উপসর্গই নেই (অনেকে বলেন প্রেসার বাড়লে মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা ইত্যাদি হয়, কিন্তু এর কোন সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি)। কিন্তু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এ দুটো রোগ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এরাই মারাত্মক কিছু রোগ ও তার জটিলতা তৈরী করে আমাদের জীবনহানি ঘটায়। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন, মানুষের মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারনের মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ (প্রেসার) অন্যতম দুইটি কারণ। যার জন্য এ দুটি রোগকে আমরা নীরব ঘাতক বলে থাকি।

আমার কর্মস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্স, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গায় আসা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের প্রধান উদ্দেশ্যে থাকে ডায়াবেটিস বা প্রেসারের (উচ্চ রক্তচাপ গ্রামের মানুষের কাছে প্রেসার নামেই অধিক পরিচিত) ঔষধ নেওয়া। তাদের অধিকাংশই ডায়াবেটিস বা প্রেসারের কি ঔষধ খান তার নাম পর্যন্তও বলতে পারেন না। আর পূর্বের কোন প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসতে ভুলে যেতেই তারা অভ্যস্ত। যার ফলে তারা কি ঔষধ খেয়ে প্রেসার বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন তা জানাটাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

সত্যিকার অর্থে এই দুইটি রোগ নিয়ন্ত্রণে যেমন প্রয়োজন আছে নিয়মিত ঔষধ খাওয়ার, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন এ রোগ দুইটি সম্পর্কে মোটামুটি কিছু ধারণা থাকার। যথাযথ ধারণা না থাকার কারণে অনেকেই রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে একটি বড় ধরনের ঝুকির মধ্যে ফেলছেন। এই দুইটি রোগ নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই আমার লেখার উদ্দেশ্যে…

ডায়াবেটিসটা আসলে কি?

ডায়াবেটিসের নাম শুনেননি এমন মানুষ পাওয়া বর্তমানে দুঃষ্কর। আমাদের শরীরে রয়েছে প্যানক্রিয়াজ (অগ্নাশয়) নামক একটা গ্রন্থি। এই গ্রন্থির অন্যতম একটা কাজ হল ইনসুলিন নামে একটা হরমোন তৈরী করা। এই ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে কাজে লাগিয়ে শরীরে শক্তি তৈরী ও অন্যান্য কাজ করে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখে।

যখন কোন কারণে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন পরিমাণমত তৈরী করতে পারে না, কিংবা ইনসুলিন ঠিকমত তৈরী হলেও এই ইনসুলিন কোন কারণে ঠিকমত কাজ করতে পারে না, তখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বভাবতই বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে আমরা ডায়াবেটিস বলি।

রক্তের এই অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তের স্বাভাবিক পরিবেশ/ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বিভিন্নভাবে শরীরের ক্ষতি করে থাকে (রক্তে প্রতিটি উপাদানেরই একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকার প্রয়োজন হয়, যদি সেগুলো নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে না থেকে কম/বেশি হয়ে যায় সেগুলো ক্ষতির কারণ হয়) আর এভাবেই তৈরী হয় স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মত বিভিন্ন জটিলতাসমূহ।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খবরঃ নিজস্ব কার্যালয়ে আলমডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতি।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস পরিস্থিতিঃ

যুক্তরাজ্যে ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ল্যানসেটের আঠার বয়ষোর্ধ নারী পুরুষেদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৮০ সালে দেশের ৩.৮℅ পুরুষ ও নারী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল। আর ২০১৪ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় পুরুষের ক্ষেত্রে শতকরা ১০.৩ জন এবং নারীর ক্ষেত্রে শতকরা ৯.৩ জন। দেখা যাচ্ছে, সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ভয়ঙ্কর দু'টি নীরব ঘাতক
ডায়াবেটিস রোগের পরিসংখ্যান ।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার শতকরা ১১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত; আর আক্রান্ত ব্যাক্তিরা যখন ডাক্তারের কাছে আসেন তখন দেখা যায় অর্ধেকেরও বেশি রোগী ডায়াবেটিস জনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন অর্থাৎ তিনি জানতেনই না দীর্ঘদিন ধরেই তার শরীরে বাসা বেধেছে এক ভয়ঙ্কর ঘাতকঃ ডায়াবেটিস।

যুক্তরাজ্যে ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ল্যানসেটের আঠার বয়ষোর্ধ নারী পুরুষেদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৮০ সালে দেশের ৩.৮℅ পুরুষ ও নারী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল। আর ২০১৪ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় পুরুষের ক্ষেত্রে শতকরা ১০.৩ জন এবং নারীর ক্ষেত্রে শতকরা ৯.৩ জন। দেখা যাচ্ছে, সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার শতকরা ১১ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত; আর আক্রান্ত ব্যাক্তিরা যখন ডাক্তারের কাছে আসেন তখন দেখা যায় অর্ধেকেরও বেশি রোগী ডায়াবেটিস জনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন অর্থাৎ তিনি জানতেনই না দীর্ঘদিন ধরেই তার শরীরে বাসা বেধেছে এক ভয়ঙ্কর ঘাতকঃ ডায়াবেটিস।
(চলবে)