কাকতাড়ুয়া

188
কাকতাড়ুয়া

হাড়ি মাথা, ড্যাবা চোখ, চুল নেই মোটে,
ছেঁড়া প্যান্ট ছেঁড়া জামা যদিও বা জোটে…………
জুতো নেই পায়ে,
খাড়া এক ঠায়ে……..
কঞ্চির মতো হাত,
একভাবে দিন-রাত…….
দারোয়ানি ক্ষেতময়,
গরু ছাগলের ভয়……

—- গ্রামীণ আবহ হচ্ছে স্রষ্টার এক অমোঘ মায়া। মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ জেনো বিধাতা সাজিয়েছেন তার নিপুণ কৌশলে । সেই দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ পাহারায় সদা সর্বদা রত থাকেন বিনা বেতনে বছরের পর বছর এই কাকতাড়ুয়া ।

আদিকাল থেকে আমাদের পুর্বপুরুষেরা কাকতাড়ুয়া কে বসিয়েছেন পাহারাদারের আসনে।
কাকতাড়ুয়ার দুই হাতে পাখিরা এসে জড় হয় এবং সমস্ত ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা করে। শৃগালের দল দূর থেকে মানুষ ভেবে এই পথগামী হয়না তাতেই বেঁচে যায় তরমুজ, বাঙ্গী,টমেটো, কাঁকড় এর মতন মৌসুমি ফসল।

আজো প্রান্তিক গ্রাম অঞ্চলে ফসলের মাঠে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কাকতাড়ুয়া দের। লম্বা ঢিলেঢালা পোশাক মাথায় মেটে হাড়িতে চুন দিয়ে নাক,মুখ আর চোখের অবয়ব । সব মিলিয়ে হ্যামেলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতন কিম্ভুতকিমাকার একটা বেশ । তবে সময়ের সাথে, সাথে কাকতাড়ুয়া বিলুপ্তির পথে। আগের মতন ফসলের মালিক কাকতাড়ুয়া তৈরিতে ততটা দক্ষতা দিয়ে তৈরি করেন না। সময়ের পালাবদলে কাকতাড়ুয়ার বিবর্তন হয়ে আজ শালিকতাড়ুয়া তে রুপান্তর হতে চলেছে।

ছবিটি আলমডাঙ্গার হাড়গাড়ী গ্রামের ফসলের মাঠ থেকে Reza Mohammud Sobuz তুলে পাঠিয়েছেন।