লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে যাওয়া আমাদের কুবির গোঁসাই ।

210
অবজ্ঞতাই থেকে যাওয়া আমাদের কুবির গোঁসাই।
কুবির গোঁসাই এর বাস্তুভিটা

পিরিতি করবি নাকি জন্য বল দেখি ?
সংসারে আবাল-বৃদ্ধ পিরিতি করে সবাই সুখি ।।
পিরিতি করতে স্বর্গ মর্ত্যে কোনখানে আছে বাকি?
শিয়াল-কুকুর পিরিত করে চালের বাতায় টিকটিকি।।

প্রেমতত্ত্বমূলক কথাগুলোর রচয়িতা আলমডাঙ্গা উপজেলাধীন জামজামী ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের যুগীতাঁতি সম্প্রদায়ের সাধক কুবির গোঁসাই(১৭৮৭-১৮৭৯) এর। কবীর গোঁসাইয়ের অন্যতম প্রধান শিষ্য রামলাল এর খাতাতে তার স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা আছে ভগবতী এবং সাধনসঙ্গিনী হিসেবে কৃষ্ণ মোহিনীর নাম। একই খাতা থেকে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া যায় সেই তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম ১১৯৪ বঙ্গাব্দের ফাগুন পূর্ণিমায় আর ১২৮৬ বঙ্গাব্দের ১১ আষাঢ় মৃত্যু।

এই কুবির গোঁসাই মরমী সাধক লালন শাহের সমসাময়িক তিনি প্রায় বারো শ’রও অধিক গান রচনা করেছেন। প্রেম তত্ত্বমূলক লেখার সাথে তিনি অনেক দেহতত্ত্বের গানও লিখেছেন। কিন্তু সংগ্রাহকদের উপেক্ষার কারণে কবির গোসাই লোক চক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। কবির গোসাই খুব বেশি পরিচিতি লাভ না করলেও সহজিয়া সাধকদের তার গানের সাথে ঘনিষ্ঠতা আছে, তারা কবির গোসাইয়ের নাম জানে এবং তার গানের মর্ম বোঝে।
তার লেখা দেহতত্ত্বমূলক গানের নমুনা।


জন্ম ছাঁদা নৌকা তার নায়িকা সাঁদা মারা,
জল ঝরে বানে বানে নোনা বানে জীর্ণজরা,
তাকে গাবকালি নাই কালা পাতি সৃষ্টিধরের গঠন করা।।
মানব-তরীর ছিদ্র নটা টিপলে ফাঁসা মধ্যে ফাটা
হায়রে জল উঠে ফোটা ঘোচেনা ভুলুক মারা
নায়ের ভগ্ন গুঁড়া ডালি পড়ো পেরাক নড়ো তক্তা চেরা।।

তিনি সঙ্গীত জীবনের শুরুতে যাত্রাপালাই অভিনয় করতেন। পরবর্তীতে সঙ্গীত রচনায় তার পরিচয় বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে, এরপর তিনি স্থায়ী বসবাস শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়। সেখানে সাহেবধনী সম্প্রদায়ের চরণ পালের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, পরবর্তীতে সাহেবধনী সম্প্রদায়ের সাধন সংগীত লেখেন।

তথ্যসংগ্রহঃ বাংলা একাডেমি হতে প্রকাশিত বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা (চুয়াডাঙ্গা)