আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

190
আত্মনির্ভরশীল ও সফল হয়ে ওঠার এক অসাধারন গল্প
নাঈম হাসান

চাকরীর পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট করে না পেয়ে হতাসায় ডুবে যাওয়ার কিছু নেই। একটু বুদ্ধি করে পরিশ্রম করলেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায়। লেখা যায় আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এক অসাধারন গল্প ।

আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত চরপাড়া গ্রামে মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুর আবাদ করে আত্মনির্ভরশীল ও সফল হয়ে ওঠার এক অসাধারন গল্প তৈরী করেছেন স্কুল শিক্ষক নাঈম হাসান। নাঈম হাসানের তৈরী এই বাস্তব গল্পের মাল্টা বাগানের গাছভর্তি এখন টাকা আর টাকা। তিন বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি মাল্টার এই স্বপ্নের বাগান গড়ে তুলেছেন। এখন মন মন বিক্রি হচ্ছে মাল্টা, পেয়ারা ও লেবু।

জামজামী ইউনিয়নের প্রান্তিক গ্রাম চরপাড়ার মাঠে গড়ে তোলা হয়েছে বিশালাকৃতির বাগান। বাগানটিকে চারদিক থেকে দেখভাল করছে চার থেকে পাঁচজন নিয়মিত শ্রমিক। বাগানের গাছে গাছে ঝুমঝুম করছে অগুনতি সবুজ মাল্টা ফল। খেতে সুমিষ্ট মাল্টার পাইকারী বাজার দর এখন কেজি প্রতি ১০০ টাকা। প্রতিদিন বাগান থেকে মনকে মন মাল্টা উঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাহনে তা চলে যাচ্ছে বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে।

নাঈম এখন ফল বিক্রির পাশাপাশি বারি মাল্টা-১, কাগজি লেবু ও থাই পেয়ারার চারাও বিক্রি করছেন। নতুন উদ্যেক্তাদের উৎসাহী করে তুলতে নানাভাবে সাহায্যও করছেন তিনি।

বাগানের উদ্যেক্তা নাঈম হাসানের বক্তব্যঃ

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাঈম হাসান। তিনি এমনিতেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি। প্রথমে কিছু দরিদ্র মানুষকে উপকার করতে মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুর বাগান করার উদ্যেগ নেন তিনি। এই বাগানকে ঘিরে চার-পাঁচটি পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা পেয়েছে। স্বচ্ছলতার সাথে তাদের সংসার চলছে। পাশাপাশি তিনি নিজেও এখন আরও স্বাবলম্বি হতে পেরেছেন। তার মন্তব্যঃ

যুবকরা এ ধরনের উদ্যেগ নিয়ে সহজেই স্বাবলম্বি হতে পারেন। শুধু মাল্টার বাগান না, ছোট ছোট বিভিন্ন খামার করেও যুবকরা স্বাবলম্বি হতে পারেন। এখন অনেকেই গরুর খামার, হাস-মুরগীর খামার, মাছের খামার করে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। চাকরীর পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট করে না পেয়ে হতাসায় ডুবে যাওয়ার কিছু নেই। একটু বুদ্ধি করে পরিশ্রম করলেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়া যায়।