বসন্তের ছোঁয়ায় কচি পাতায় রঙ্গিন প্রজাপতির ধ্যান ।

119
বসন্তের ছোঁয়ায় কচি পাতায় রঙ্গিন প্রজাপতির ধ্যান ।
গাবগাছ ও পুকুর পাড়।

এখনও গাবগাছ ও পুকুর পাড় আছে কিন্তু সেই মূহুর্তগুলো নেই, তবে প্রতি বছর গাবগাছ তার সেই রুপ দেখাতে একটুও কার্পণ্যতা করেনা।

কুমারীর জমিদার শৈলেন বাবুর বাড়ির বিভিন্ন আর্কষণ এর মধ্যে এই পুকুর টা হচ্ছে অন্যতম এক আর্কষণ।পুকুরের চারিদিকের পাড় ছোট বড় অসংখ্য গাছে ঘেরা।এসব গাছের মধ্যে সব থেকে নজরকাড়া আর্কষনীয় বিশালাকার ফুলকপির ন্যায় এই গাব গাছ।খুব ছোট বেলা থেকেই এই গাছটি এত বড় ই দেখে আসছি।গাড় সবুজ পাতার গাছটি ঝোপের ন্যায় এবং অন্ধকার এর নীচে। কথায় বলে গাব গাছের ভুত,আসলে এমন টা না।গাব গাছ হলেই যে সেখানে ভুত তা নয়,মূলত ভূত বলতে কিছু নেই। এই গাছের নীচে অন্ধকার থাকে বলেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এমনটা মনে করেন।এর গাড় ঘন সবুজ পাতায় সম্পূর্ন গাছটি আচ্ছাদিত, গাছের নীচে এক মন জুড়ানো ঠান্ডা অনুভূতি!গরুর জিহব্বার ন্যায় আকৃতির পাতা গুলো মসৃণ চকচকে,মনে হয় কেও তেল মাখিয়ে রেখেছে।

বসন্তের মাঝামাঝি সময় থেকে এই গাছের রুপ যেন আরও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।বসন্তের ছোঁয়ায় গাছের নতুন কচি পাতা বের হয়,তখন সম্পুর্ন গাছটিকে দেখলে মনে হয় যেন গাছ জুড়ে রঙ্গিন প্রজাপতি ধ্যানে মগ্ন।এত সুন্দর দেখায় যে কেও না দেখলে এর সৌন্দর্য তার অজানায় থেকে যাবে।কচি পাতার রং টার যে কি নাম বলবো-লাল,তামাটে,গোলাপি এই তিন রং ই মনে হয় এর মধ্যে লুকানো!

যখন এর ফল হয় সেগুলো সবুজ বর্ণের, দেখতে খুব সুন্দর লাগে।অনেকে বিভিন্নরকম কাজে লাগানোর জন্য এগুলো পেড়ে নিয়ে যায়।এই গাব যখন পাকতে শুরু করে হলুদ বর্ণ হয়ে যায়।ছোট বড় ছেলেরা গাব এর সময় এই গাছের নীচেই থাকে দিনের বেশীরভাগ সময়। পাকা গাব খেতে যে খুব মিষ্টি, সেই মিষ্টতা নেওয়ার লোভ অনেকের ই হয় গাব পাকার সময়।
ছোটবেলায় যখন সাঁতার কাটতে শিখলাম তখন এই পুকুরে গেলে ২ ঘন্টার নীচে আর উঠতাম না।চোখ লাল হয়ে যেত তবুও যেন উঠতে মন চাইতো না।আম্মু লাঠি নিয়ে সারা পাড় পায়চারি করতো আমার ওঠার অপেক্ষায়,কখন পিটানি দিবে! পানিতে ভেসে থাকে বলে আমরা অনেকেই এই গাব নিয়ে খেলতাম।
এখন গাবগাছ আছে পুকুর পাড়ও আছে কিন্তু সেই মূহুর্তগুলো নেই,তবে প্রতি বছর গাবগাছ তার সেই রুপ দেখাতে একটুও কার্পণ্যতা করেনা।